ইসলামিক ভাবে জন্মদিনের শুভেচ্ছা স্ট্যাটাস ও SMS – জন্মদিনের ইসলামী শুভেচ্ছা বাণী

প্রিয় ভিজিটর, জন্মদিনে আমরা একে অপরকে নানাভাবে শুভেচ্ছা জানিয়ে থাকি। প্রত্যেকটি মানুষের জীবনে এক বছর পর পর জন্মদিন আসে। না না মানুষ নানাভাবে জন্মদিন এই দিনটি পালন করে থাকে। ইউরোপ আমেরিকার দেশগুলোতে আমরা দেখি বড় বড় পার্টি দিয়ে জন্মদিনটি তারা উদযাপন করে। জন্মদিনের পার্টিতে তারা কেক কাটে এবং বিভিন্ন ধরনের খাবারের আয়োজন করে। জন্মদিনের পার্টির পর এ মদ্যপান করাটাও অনেক স্থানে দেখা যায়।

আমাদের বাঙালি সংস্কৃতিতে মদ্যপানের রেওয়াজ নেই। এমনকি বাংলাদেশের সংবিধানের মদ্যপান নিষিদ্ধ। মদ্যপান বাংলাদেশ আইনত দণ্ডনীয়। তাই জন্মদিন হোক বা যেকোনো ধরনের পার্টি হোক না কেন মদ্যপান করা ঠিক নয়। মদ্যপান করলে বাংলাদেশের সংবিধান লংঘন করা হয়। তবে কিছু কিছু ক্ষেত্রে মানুষের ব্যক্তি স্বাধীনতা রয়েছে।

বাংলাদেশের প্রায় 80 % এর উপরে মুসলমান বসবাস করে। মুসলিমদের ধর্মীয় রীতিতে মদ্যপান নিষিদ্ধ। যেসব বস্তু ভক্ষণ করলে অথবা পান করলে মানুষ তার স্বাভাবিক জ্ঞানটুকু ধরে রাখতে পারেনা সে ধরনের বস্তু ভক্ষণ অথবা পান করা ইসলামে নিষিদ্ধ। সুতরাং মুসলমান হিসেবে আমরা কোন পার্টিতে মদ্যপান করতে পারিনা। যেহেতু মদ্যপান করলে মানুষ নিজের ওপর নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলে তাই আমাদের জন্মদিনের পার্টিতে মদ্যপান থেকে বিরত থাকতে হবে।

আমরা যে কারো জন্মদিনে শুভেচ্ছা জানাতে ইসলামিক নিয়ম ফলো করতে পারি। আমাদের নিজস্ব সংস্কৃতি অনুযায়ী আমরা কারো জন্মদিনে শুভেচ্ছা জানাতে পারি। বাঙালি হিসেবে আমাদের উচিত অন্য কোনো সংস্কৃতিকে কপি না করা। আমরা যদি আমাদের ধর্মের প্রতি পুরোপুরি বিশ্বাস রাখি তাহলে ধর্মীয়ভাবে আমাদের সব ধরনের শুভেচ্ছা জানানো উচিত। আমাদের লক্ষ্য রাখতে হবে জন্মদিন অথবা অন্যান্য দিনের শুভেচ্ছা জানাতে আমরা যেন কোন ধরনের অপসংস্কৃতি অনুসরণ না করি। আমাদের সংস্কৃতি আমাদের গর্ব। তাই সবসময় মনেপ্রাণে নিজস্ব সংস্কৃতিকে লালন করতে হবে’।

আমাদের কাছের মানুষের জন্মদিনে আমরা খুব ধুমধাম করে আয়োজন না করে গোছানো একটা আয়োজন করতে পারি। আমার কাছের মানুষের জন্মদিনে আমি মন প্রাণ ভরে তার জন্য দোয়া করতে পারি। পিতা-মাতা ও কাছের মানুষের দোয়া কখনো বিফলে যায়না। তাই জন্মদিনে আসলেও অন্যান্য দিনের মত খুব বেশি বেশি তার জন্য দোয়া করতে হবে। জন্মদিনের দিনে তাকে উৎসাহ দিতে হবে যেন সে তার ব্যক্তিগত লক্ষ্যে অটুট থাকে এবং সেই লক্ষ্য পূরণে যথেষ্ট পরিশ্রমী হয়। কোন ধরনের অপসংস্কৃতি অনুসরণ করে আমরা কখনোই তাদের উৎসাহ দিতে পারব না।

শৃঙ্খলা ও সৌন্দর্য বজায় রাখা যেকোনো কাজের ক্ষেত্রেই জরুরি। বিশৃংখল জীবনযাপন কখনোই আপনাকে মানসিক শান্তি দিতে পারবেনা। মানসিক শান্তি পেতে হলে সুশৃঙ্খল জীবন যাপন করতে হবে। সারা জীবন উশৃঙ্খল জীবনযাপন পার করার পর শেষ জীবনে যখন মানুষের শরীরে শক্তি থাকে না, তখন সেই মানুষটা বুঝতে পারে সে পূর্বে কতটা ভুল করে এসেছে।

আপনি আপনার সন্তানকে যেমনটা শিখাবেন আপনার সন্তান ঠিক তেমন ভাবে বেড়ে উঠবে। তাই আপনাকে লক্ষ্য রাখতে হবে আপনার সন্তান কি শিখছে। আপনার সন্তান যদি জন্মদিনে ধুমধাম করে পার্টি করা শিখে তাহলে সে কখনো শৃংখলার ভিতর আসতে পারবে না। পার্টি করে মদ্যপান করা, ডিজে গানের সাথে সারারাত নাচানাচি করা কখনোই সুস্থ মস্তিস্কের মানুষের পক্ষে সম্ভব নয়। আপনাকে এমন প্লাটফর্ম তৈরি করে দিতে হবে যাতে আপনার সন্তান বিপথে যাবার সুযোগ না পায়।

তাই আপনার সন্তানের জন্মদিনে তাকে ইসলামিক ভাবে শুভেচ্ছা জানান। তার জন্মদিনে তার জন্য অনেক অনেক দোয়া করুন এবং শুভকামনা জানান। ঠিকা কিভাবে আপনার কাছের মানুষের জন্মদিনের শুভেচ্ছা ও একইভাবে জানান। ইসলামিক ভাবে আরো কোন কোন উপায়ে আপনার কাছের মানুষকে জন্মদিনের শুভেচ্ছা জানাতে পারবেন তা নিয়ে আমরা আবারো কথা বলব আমাদের এই ওয়েবসাইটে।আপনারা সুস্থ ও সুন্দর সংস্কৃতি চর্চা করুন, অপসংস্কৃতি পরিহার করুন। সুস্থ ও সুন্দর সংস্কৃতি চর্চার মাধ্যমে আপনি আপনার মানসিকতার সম্পূর্ণ বিকাশ ঘটাতে পারবেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published.