ভালোবাসার গল্প কাহিনী

ভালোবেসে কেউ সফল হয় আবার কেউ হয়ে যায় ব্যর্থ। ভালোবেসে সফলতার মুখ দেখুক আর নাই দেখুক প্রতিটি মানুষের ভালোবাসার পেছনে থাকে অজানা কিছু গল্প। আমরা ইতিহাসে অনেক ভালোবাসার গল্প দেখে এসেছি। লাইলি মজনু, শিরি ফরহাদ, রোমিও জুলিয়েট এইসব চরিত্রগুলো আমাদের কাছে খুবই পরিচিত। ভালোবেসে জীবন দিয়ে দেওয়ার মতো অনেক ঘটনা ইতিহাসের পাতায় রয়েছে। প্রিয় বন্ধুরা, আজ আমরা আপনাদের কাছে ভালোবাসার বেশ কিছু গল্প কাহিনী নিয়ে হাজির হলাম। আশা করছি করি আমাদের এই গল্প কাহিনী গুলো আপনাদের অনেক ভালো লাগবে। আপনাদের জ্ঞাতার্থে জানিয়ে রাখছি যে এই গল্প কাহিনীগুলো আমাদের আশেপাশে ঘটে যাওয়া বাস্তব কাহিনী। আমাদের কাছের বিশ্বস্ত কিছু মানুষের মাধ্যমে এইসব কাহিনী গুলো আমরা সংগ্রহ করেছি। ঘটনাগুলো আপনাদের ভালো লেগে থাকলে অবশ্যই আমাদেরকে জানাবেন।

তখন বয়স সবে উনিশ কুড়ি হবে, কলেজ পাশ করে ইউনিভার্সিটিতে উঠেছি। মনের মধ্যে একরাশ স্বপ্ন নিয়ে গুটিগুটি পায়ে গন্তব্যের দিকে এগিয়ে চলেছি। কখনো ভাবি নি আমার এই সুন্দর জীবনে কিছু অপ্রত্যাশিত ঘটনা ঘটে যাবে। মানুষ হয়তো কখনো ভাবে না সামনে কোন অপ্রত্যাশিত ঘটনা ঘটতে পারে।

প্রেম হয়তো সবার জীবনে আসে না তবে যাদের জীবনে আসে তারা খুবই ভাগ্যবান। আপনি হয়তো বলতে পারেন প্রেম তো সবার জীবনেই আসে তবে আমি বলছি এমন প্রেমের কথা যা আপনাকে ব্যর্থ করে ছাড়বে। প্রেম অবশ্য অনেক ধরনের রয়েছে, বিয়ের পর স্বামী স্ত্রীর যে প্রেম তা হচ্ছে বেশিরভাগ ক্ষেত্রে চির স্থায়ী প্রেম। যাই হোক, এবার আমার জীবনের কাহিনী নিয়ে কথা বলি।

মেয়েটি সদ্য কলেজে উঠেছে। কাজল কালো দুটি চোখ, পলক পড়লেই যে চোখের অতলে হারিয়ে যেতে হয়। আমিও হারিয়ে গিয়েছিলাম, গভীরতা আঁচ করতে পারিনি তাই।

একই পাড়ায় থাকার সুবাদে তার সাথে দেখা হতো সকাল বিকাল। সকালে সে যখন কলেজে বের হতো আমিও ইউনিভার্সিটি ৯ টার ক্লাস ধরার জন্য বাসের অপেক্ষায় থাকতাম। এরপর সারাদিন তো ক্লাসে থাকতাম ,বাড়ি এসে নাও খাওয়া সেরে যেতাম পাড়ার মাঠে খেলতে। মাঠে যাবার রাস্তায় তার সাথে দেখা হতো প্রায় প্রতিদিন। কোন কোন দিন দেখতাম ছাদে দাঁড়িয়ে হয়তো চুল শুকাতো। আমি যখন রাস্তা দিয়ে যেতাম মনে হতো সে যেন আমার দিকেই তাকিয়ে রয়েছে। কখনো চোখ তুলে দেখার সাহস পেতাম না।

তার সাথে আমার প্রথম কথা হয় দুর্গ পুজোতে। আমাদের পাড়ার পুজোতে ছেলে মেয়েরা একসাথে সব আয়োজন করে। প্যান্ডেল সাজাতে গিয়ে প্রথম সে আমার সাথে কথা বলে। সেদিনের কথাগুলো খুবই স্বাভাবিক ছিল। তার চোখের দিকে তাকাতে পারিনি সেদিনও, অন্যদিকে তাকিয়ে তার প্রশ্নের উত্তর দিয়েছিলাম।

আস্তে আস্তে কিভাবে আমাদের মধ্যে বন্ধুত্বের সম্পর্ক তৈরি হলো দুজনেই বুঝতে পারিনি। সে আমার থেকে বছর তিনেকের ছোট হবে। আমি বরাবরই একটু ইম’ম্যাচিউর। আপনারা নিশ্চয়ই জানেন মেয়েদের ম্যাচুরিটি ছেলেদের থেকে একটু আগেই চলে আসে। আমাদের প্রতিদিন কথা হতো না, ওর বাড়ির সামনে দিয়ে যাবার সময় চোখে চোখে একটু কথা হতো আর কি। মাঝে মাঝে ও খাতার পৃষ্ঠা ছিড়ে চিঠি লিখে আমায় পাঠাতো, আমার বন্ধুরা এ নিয়ে আমার পেছনে লাগতো। আমিও তার প্রত্যেকটি চিঠি র উত্তর দিতাম।

ও যখন কলেজে বের হতো, আমার প্রতিদিনের রুটিন ছিল ওর পেছন পেছন বাস স্ট্যান্ড পর্যন্ত যাওয়া। পাশাপাশি কখনো হাঁটতে পারতাম না, আছে কেউ না আমাদের ধরে ফেলে। অনেক সময় তো ইউনিভার্সিটি ক্লাস বাদ দিয়ে ওর কলেজে গিয়ে বসে থাকতাম। প্রেম আমাকে এভাবেই ফাঁকি দিতে শিখিয়েছিল।

প্রথমদিকে ভালোবাসি বলতে আমরা অনেক সময় নিয়েছিলাম। বন্ধুত্ব থেকেই ভালোবাসা তৈরি হয়েছিল কিনা। আস্তে আস্তে যখন বুঝলাম ওকে না দেখলে এক মুহূর্ত ঘরে মন বসাতে পারি না, তখন কেন জানি মনের ভেতর থেকে ভালবাসি কথাটা এমনিতেই বের হয়ে এসেছিল।

ওর জ্যাঠাতো বোনের বিয়েতে আমার সুযোগ হয়েছিল ওদের বাড়িতে ওর সাথে কিছুটা সময় একসাথে থাকার। সেদিন আমরা ওদের বাড়ির ছাদে অনেকটা কাছাকাছি এসেছিলাম। সেদিন আমি ভীষণ উত্তেজিত ছিলাম, ভেতরে অনেক ভয় কাজ করছিল। সেই প্রথম আমি তার হাতে হাত রাখি, কপালে শুকনো চুমু খেয়েছিলাম। সেদিন ওর চোখে আমার জন্য অনেক ভালোবাসা দেখেছিলাম আমি।

শেষ পর্যন্ত আমাদের এই ভালোবাসা পূর্ণতা পায়নি। এখনো অনেক মানুষের মুখে শুনি যে যাকে ভালোবাসো তাকে পেয়ে গেলে ভালোবাসা কোথায় থাকলো? খুব বেশি ভালবাসলে তাকে নাকি নিজের করে পেতে নেই। ভালোবাসার মানুষকে নাকি দূর থেকে ভালবাসলেই বেশি ভালোবাসা যায়। আমি জানিনা তাদের এ কথা কতটুকু যুক্তিযুক্ত তবে আমি এইটা জানি আমার মনের মধ্যে সব সময় একটা শূন্যতা কাজ করে যা কখনো পূরণ হবার নয়। ভালো থাকুক সকল ভালবাসাগুলো।

Leave a Reply

Your email address will not be published.