জীবনের শেষ কিছু কথা – ফেসবুকে শেয়ার করার মতো

প্রিয় ভিজিটর, জীবনে চলার পথে আমাদের সামনে অনেক বাধা, বিপত্তি, প্রতিকূলতা আসতে পারে। সকল মানুষের জীবনেই সমস্যা রয়েছে। সমস্যা হীন জীবন কল্পনা করা যায় না। জীবনে চলার পথে আমাদের সামনে কোন প্রতিকূলতা আসলে তা কাটিয়ে উঠতে আমাদের অনেক কষ্ট হতে পারে। মানুষের জীবনে নানা ধরনের সমস্যা চারদিক থেকে ঘিরে আসে। আমরা একটি সমস্যা মোকাবেলা করার পরপরই অন্য একটি সমস্যা আমাদের দরজায় কড়া নাড়ে। চলতিপথে এসব সমস্যা মোকাবেলা করতে না পারায় অনেকেই মাঝরাস্তায় হাল ছেড়ে দেন।

প্রিয় বন্ধুরা, আমরা মানুষ হিসেবে জন্মেছি। পৃথিবীতে টিকে গেলে একজন মানুষকে অনেক লড়াই করতে হয়। সেই আদিম যুগ থেকে মানুষ প্রকৃতির সাথে লড়াই করে পৃথিবীতে টিকে আছে। যে সময় মানুষ জানত না তাদের সামনে কি অপেক্ষা করছে। আগুন জালানো থেকে শুরু করে সমুদ্রে সাঁতার কাটা এই প্রত্যেকটি কাজ মানুষকে নতুন ভাবে শিখতে হয়েছে।

বর্তমান সময়ে আমরা রেডিমেড সবকিছু পেয়ে যাই। একবার ভেবে দেখুন তো? আজ থেকে হাজার হাজার বছর পূর্বে যে মানুষ জন্মেছিল তাদের জীবনযাত্রা কেমন ছিলো। কেমন লাগতো শুধুমাত্র কাঁচা মাংস খেয়ে বেঁচে থাকতে। প্রচন্ড শীতের ভিতর একদম খোলা শরীরে খাবার সংগ্রহ করতে কেমন লাগতো?

হালকা গরম সহ্য করা আমাদের জন্য অনেক কঠিন অথচ একসময় ফ্যান অথবা হাতপাখা জোগাড় করা খুবই কঠিন ছিলো। আজকাল হাজার হাজার মাইল পাড়ি দিতে আমাদের দু’দণ্ড সময় লাগে না অথচ সেই সময় সামান্য রাস্তা অতিক্রম করতে রাতের পর রাত কেটে যেতো।

প্রিয় পাঠকগণ, আজ আমি এত বিষয় নিয়ে আলোচনা করছি এর পেছনে একটাই কারণ, আপনি সমস্যায় পড়বেন, সেই সমস্যার সমাধান করবেন আবার আপনার সামনে নতুন একটি সমস্যা এসে হাজির হবে এবং এইটাই জগতের নিয়ম।

গত কয়েক বছর যাবৎ আমরা লক্ষ্য করছি আত্মহত্যার প্রবণতা বেড়েই চলেছে। সামান্য কারণে মানুষ এখন আত্মহত্যার মতো কঠিন সিদ্ধান্ত নিচ্ছে। যেসব মানুষ আত্মহত্যার মতো কঠিন সিদ্ধান্ত নিচ্ছে তাদের কাছে জীবনের কোন মূল্য নেই। তাদের জীবনের সমস্যার কাছে বেঁচে থাকার ইচ্ছে মূল্যহীন। একটা মানুষ কখন আত্মহত্যার মতো সিদ্ধান্ত নিতে পারে? বেঁচে থাকার ইচছে কখন একটা মানুষ পুরোপুরি হারিয়ে ফেলে? নিজের জীবনের ওপর তীব্র বিতৃষ্ণা চলে আসলে একটা মানুষ আত্মহত্যার মত একটি কঠিন সিদ্ধান্ত নেওয়ার সাহস পায়।

আত্মহত্যায় কি সবকিছুর সমাধান হতে পারে? নিজের জীবন শেষ করাটাই কি সবকিছুর সমাধান হতে পারে?
আপনি হয়তো আত্মহত্যা করলেন, আপনার আত্মীয় স্বজনরা বন্ধুবান্ধবরা দু-তিন মাস আপনার জন্য কান্নাকাটি করল, মিলাদ মাহফিল করল, ছমাসের বেলায় আপনাকে তারা পুরোপুরি ভুলেও যেতে পারে। আজ আপনি যেসব মানুষের সামনে অপমানিত হওয়ার ভয়ে নিজের জীবনকে তুচ্ছ করে শেষ হয়ে গেলেন সেই মানুষগুলো ভুলেও আপনার কথা একবার ভেবে দেখবে না। যেসব মানুষগুলোর কথায় আপনি একেবারে ভেঙে পড়লেন সেই মানুষগুলো কখনো আপনার পরিবারের পাশে দাঁড়াবে না।

আমাদের জীবনে যেকোনো সমস্যায় আসুক না কেন লজ্জা ভয় ভীতি সবকিছু কাটিয়ে আমাদের তা সমাধান করার চেষ্টা করতে হবে। নিজের মানসিকতাকে একদম ইতিবাচক তৈরি করতে হবে। নেতিবাচক মানসিকতা নিয়ে আমরা কখনই কোন সমস্যার সমাধান করতে সক্ষম হবো না। এ পৃথিবীতে কারো ক্ষতি না করে যেকোনো কিছু করার অধিকার আপনার রয়েছে। আপনি আপনার নিজের মত করে এই পৃথিবীতে বাঁচতে পারবে পারেন। মহান সৃষ্টিকর্তা আপনাকে এই পৃথিবীতে পাঠিয়েছে অন্য সবার মত করেই।

আমাদের আশেপাশের মানুষ আমাদের ব্যর্থতা নিয়ে মজা করলে সেই ব্যাপার গুলো আমাদের ইতিবাচক হিসেবেই নিতে হবে। আমাদের সাথে ঘটে যাওয়া প্রত্যেকটি ঘটনা আমরা যদি ইতিবাচক হিসেবে নিতে পারি তাহলে খুব সহজেই আমাদের জীবনের সমস্যাগুলো আমরা সমাধান করে নিতে পারব। সামান্য ঘটনা গুলো যদি আমরা বড় করে দেখি তাহলে এর প্রভাব পড়বে আমাদের দৈনন্দিন জীবনে।

আবেগের বশবর্তী হয়ে কখনো কোনো কঠিন সিদ্ধান্ত নেওয়া বুদ্ধিমানের কাজ নয়। নিজেকে ভালবাসতে হবে, নিজের জীবনকে ভালবাসতে হবে। প্রথমত আপনার নিজের জন্য, নিজেকে ভালো রাখার জন্য কাজ করতে হবে। তারপর ভাবতে হবে নিজের কাছের মানুষগুলোর কথা। আপনার খুব কাছের মানুষ যারা তারা হয়তো আপনার উপরে ভরসা করে বসে আছে। এ সময় আপনি যদি নিজেকে শেষ করার মতো সিদ্ধান্ত নিয়ে থাকেন তবে তাদের সাথে কত বড় বেইমানি করা হবে তা নিশ্চয়ই ভাবতে পারছেন।

জীবনে চলার পথে পদে পদে নানা বাধা আসলে আমরা খুবই দক্ষতার সাথে তা অতিক্রম করার চেষ্টা করব। কখনো ব্যর্থ হলে সেই ব্যর্থতা থেকে শিক্ষা নিয়ে সামনে এগিয়ে যাবো। আপনি আপনার জীবনে সমস্যায় জর্জরিত থাকলে নিয়মিত আমাদের ওয়েবসাইট ভিজিট করুন এবং আমাদের লেখাগুলো নিয়মিত পড়ুন। আমি আশা করি আপনাদের সমস্যাগুলো সমাধান করতে আমাদের লেখাগুলি খুবই কাজে দিবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published.